লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম:
ভাস্কর ভট্টচার্য
মোট লেখা:১৯
লেখা সম্পর্কিত
তথ্যসূত্র:
প্রযুক্তি ধারা
ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি
ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই নতুন। আপনি হয়ত ভাবছেন, ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি আবার কী? এটি আবার কেনো দরকার? ওয়েব ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি কেউ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হন অথবা কেউ যদি অ্যাডাপটিভ টেকনোলজি ব্যবহারকারী হন, তাহলে অ্যাক্সেসেবল নয় এমন ওয়েবসাইট ব্যবহার করা অসম্ভব। এ লেখার মধ্য দিয়ে পাঠক আশা করি ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হবেন।
ডব্লিউ থ্রিসি গাইডলাইন :
ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করার জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম ডব্লিউ থ্রিসি একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করেছে, যা মেনে চলা সব ওয়েব ডিজাইনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেসেবল করে তৈরি করতে চাইলে ডব্লিউ থ্রিসি গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেসেবল হলো কি হলো না, তা অনলাইন বা অফলাইনে ভেলিডেট করে দেখতে পারেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি :
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর এজন্য গড়ে উঠছে শত শত ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটগুলো যদি অ্যাক্সেসেবল না হয় তাহলে একটি বড় জনগোষ্ঠীর জন্য তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা তৈরি হবে। সুতরাং যারা নীতিনির্ধারক মহলে কাজ করছেন তারা এই অ্যাক্সেসেবল বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করবেন এটাই সবার প্রত্যাশা। বাংলাদেশ সরকারের প্রণীত ওয়েবসাইটগুলোর যোগ্যতা কতটুকু তা নিচে দেখানো হয়েছে।
ভিয়েতনামে যেখানে ৯৭ শতাংশ ওয়েবসাইট অ্যাক্সেসেবল, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই করুণ। এই লেখা তৈরির জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রায় ২০টির বেশি ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করা দেখা গেছে (যার মধ্যে তথ্য কমিশনারের ওয়েবসাইট ছিল) একটি ওয়েবসাইটও পাওয়া যায়নি যেটিকে ১০০ ভাগ অ্যাক্সেসেবল বলা যেতে পারে। এখনই সময় এদিকে নজর দেয়া।
ওয়েবসাইট যদি অ্যাক্সেসেবল হয়, তাহলে অত্যন্ত সহজে আপনি তা পড়তে পারবেন, দ্রুত নেভিগেট করতে পারবেন, কম গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন। যেকোনো প্রতিবন্ধী মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন অ্যাডাপটিভ টেকনোলজি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো ইন্টারনেট সিকিউরিটি প্রোগ্রাম আপনার ওয়েবসাইটকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করবে না। আর ওয়েব অ্যাক্সেসিবিলিটি দূর করতে পারে প্রতিবন্ধী মানুষের ওয়েব ব্যবহারের সব বাধা।
ওয়েব সুবিধাপাওয়া ও ব্যবহারের অধিকার কী?
ওয়েব পাওয়া ও ব্যবহারের অধিকারের অর্থ হলো প্রতিবন্ধী-অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি নির্বিশেষে সবাই যাতে ওয়েবের সুবিধা পেতে পারেন ও ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
ওয়েব সুবিধাপাওয়া ও ব্যবহারের অধিকারের মধ্যে রয়েছে :
ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ্লিকেশন, যা একজন প্রতিবন্ধী অনুধাবন করতে, বুঝতে, নিজে নিজে ওয়েবে ভ্রমণ করতে এবং যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। ওয়েব সুবিধাপাওয়া ব্যবহারের বিষয়ে বিশদভাবে জানা যাবে। www.w3c.com সাইটে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওয়েবসাইটগুলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়ামের মানদন্ডে নির্মিত নয়। এই মানদন্ডে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এ যাবৎ নিম্নলিখিত বাধাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে :
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে : সুবিধা পাওয়া ও ব্যবহারে যেখানে বাধা আসে
বিকল্প পাঠ্য আকার নেই এমন প্রতিকৃতি থাকলে
জটিল প্রতিকৃতি, যেমন-বর্ণনা নেই এমন গ্রাফ বা চার্ট থাকলে
পাঠ্য বা অডিও আকারে যথেষ্ট ব্যাখ্যা নেই এমন ভিডিও থাকলে
প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বা গতিশীল বিষয়বস্ত্ত থাকলে
শুধু দৃশ্যমান কোনো কিছু দিয়ে উপস্থাপিত কোনো বিষয়বস্ত্ত থাকলে
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা : সহায়ক প্রযুক্তি
স্ক্রিন রিডার ব্যবহার
স্পিচ আউটপুট বা বচন পাওয়ার জন্য
ব্রেইল আউটপুট বা ব্রেইল আকারে পাওয়ার জন্য
স্ক্রিন বিবর্ধক সফটওয়্যারের ব্যবহার
শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা : সুবিধা পাওয়া ও ব্যবহারে যেখানে বাধা আসে
ওয়েবের অডিওতে শিরোনাম বা লিখিত বর্ণনা না থাকলে
কারো মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা যদি বাচনিক বা লিখিত ভাষা না হয়ে ইশারা ভাষা হয়, তবে তার পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন হতে পারে যদি পাতাভর্তি লেখা বা টেক্সটের সাথে বিষয়সংশ্লিষ্ট ছবি না থাকে
স্বয়ংক্রিয় প্লেব্যাক থাকলে
ওয়েবসাইটে শব্দ সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা থাকলে
শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা : সহায়ক প্রযুক্তি
দৃশ্যমান বেল
চলাচল বা গতিময়তা সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধিতা : সুবিধা পাওয়া ও ব্যবহারের যেখানে বাধা আসে
ওয়েবপেজে যদি কেবল সময়-বাঁধা সাড়ার ব্যবস্থা থাকে
ওয়েবপেজে যদি ডিভাইস নির্দেশ করার পদ্ধতি হয় জটিল ধরনের
মাউস নির্দেশনার জন্য বিকল্প কীবোর্ড সমর্থন করে না এমন ব্রাউজার হলে
চলাচল বা গতিময়তা সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধিতা : সহায়ক প্রযুক্তি
সুইচ এবং সফটওয়ার কীবোর্ড
বিকল্প হার্ডওয়্যার
বোধ এবং স্নায়ুগত ভিন্নতাজনিত প্রতিবন্ধিতা : সুবিধা পাওয়া ও ব্যবহারে যেসব বাধা আসে
ওয়েবসাইটে কাজের জন্য বিকল্প পদ্ধতি না থাকলে
সহজে বন্ধ করা যায় না এমন এলোমেলো দৃশ্যমান বা শ্রবণীয় (অডিও) উপাদান থাকলে
ওয়েবপেজে অপ্রয়োজনীয় জটিল ভাষার ব্যবহার থাকলে
ওয়েবসাইটে গ্রাফিক্সের অভাব থাকলে
ওয়েবসাইটের বিন্যাস বা গঠন সুস্পষ্ট ও সঙ্গতিপূর্ণ না হলে
তিন পক্ষ নিশ্চিত করতে পারে ওয়েব সুবিধার পাওয়া ও ব্যবহারের অধিকার
বিষয়বস্ত্ত নির্মাতারা : ওয়েব বিষয়বস্ত্তর সুবিধা পাওয়া ও ব্যবহারের দিকগুলো অবশ্যই উন্নত করা প্রয়োজন।
ব্যবহারকারী প্রতিনিধি নির্মাতা : সহজে পাওয়া ও ব্যবহার করা যায় এমন বিষয়বস্ত্ত থেকে সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীর প্রতিনিধি অবশ্যই থাকা প্রয়োজন।
ব্যবহারকারীরা : প্রতিনিধির মাধ্যমে কিভাবে ব্যবহারযোগ্য বিষয়বস্ত্ত ব্যবহার করা যায় তা ব্যবহারকারীর জানা দরকার।
ওয়েব ফর অল : ওয়েব হবে সবার জন্য, বাদ যাবে না কেউ- এ ধারণা নিয়ে পৃথিবীব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ডব্লিউ থ্রিসি। তাদের প্রণীত গাইডলাইন অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে সবার ওয়েবসাইট। নিচে কয়েকটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন অ্যাক্সেসিবিলিটি তুলে ধরা হয়েছে। যেমন :
০১. একটি অ্যাক্সেসেবল ওয়েবসাইটে হরফ বড়-ছোট করার ব্যবস্থা থাকবে।
০২. ব্রাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করা যাবে। ওভার নেভিগেশনের ব্যবস্থা থাকবে অর্থ্যৎ জাম্প করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সহজে যেতে পারবে।
০৩. শর্টকাট কী ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মাউস ছাড়াও আপনি কীবোর্ডের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবেন।
০৪. গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন ও মাইক্রোমিডিয়া ফ্ল্যাশের পরিমিত ব্যবহার।
ওয়েবসাইট অ্যাক্সেসেবল করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কিছু উদাহরণ রয়েছে। যেমন :
০১. ফ্রিডম সায়েন্টিফিক (www.hj.com)
০২. বাংলাদেশে জাপানের অ্যাম্বাসি।
(www.bd.emb-japan.go.jp/en/visa/index.html#contentstop
কিভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ওয়েব ব্যবহার করছে সে বিষয়ে আরো জানা যাবে নিচের ওয়েবসাইটে www.w3org/wai/eo/drafts/pwd-use-web
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওয়েব সুবিধাপ্রাপ্তি ও ব্যবহারের একটি ভালো উদাহরণ ইপসা-র ওয়েবসাইট। দেখুন www.ypsa.org
কজ ওয়েব
ফিডব্যাক : vashkar79@yahoo.com